সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে গ্লুকোমিটারের দিকে তাকালে অনেকেরই মন খারাপ হয়ে যায়। আগের রাতে ঠিকঠাক খাওয়া-দাওয়া আর নিয়ম মেনে চলার পরেও কেন সকালে সুগার কিছুটা বেশি দেখায়, এই প্রশ্নটি আমাদের কাছে প্রায়ই আসে।
অনেকেই মনে করেন, হয়তো রাতে কোনো ভুল হয়ে গেছে, অথবা ওষুধে কাজ হচ্ছে না। আসলে বিষয়টি সবসময় তেমনটা নয়। আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি এবং হরমোনের এক চমৎকার কিন্তু জটিল খেলা রয়েছে এর পেছনে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ডন ফেনোমেনন (Dawn Phenomenon)।
সহজ কথায়, ভোরবেলা আমাদের শরীর জেগে ওঠার প্রস্তুতি নেয়। ঘুমের গভীর থেকে আমরা যখন ধীরে ধীরে জাগরণের দিকে আসি, তখন শরীরকে কাজের শক্তি দেওয়ার জন্য কিছু হরমোন সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই হরমোনগুলোর কাজ হলো রক্তে শর্করার মাত্রা বা সুগার কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া, যাতে আপনি সারাদিন চলার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি পান।
সাধারণত সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে শরীর এই বাড়তি সুগারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পর্যাপ্ত ইনসুলিন নিঃসরণ করতে পারে। কিন্তু যাদের শরীরে ইনসুলিনের অভাব আছে বা ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না (যাদের ডায়াবেটিস আছে), তাদের ক্ষেত্রে এই বাড়তি সুগার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর সুগার একটু বেশি পাওয়া যায়।
কোন হরমোনগুলো দায়ী?
ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে আমাদের শরীরে একদল হরমোন সক্রিয় হয়, যাদের বলা হয় কাউন্টার-রেগুলেটরি হরমোন। এর মধ্যে প্রধান হলো:
- কর্টিসল (Cortisol): একে স্ট্রেস হরমোন বলা হলেও, এটি আমাদের সকালের শক্তির জোগান দেয়।
- গ্রোথ হরমোন (Growth Hormone): এটি টিস্যু রিপেয়ার এবং বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্যাটাকোলামাইন (যেমন- অ্যাড্রেনালিন): এগুলো শরীরকে দ্রুত সচল করার সংকেত দেয়।
এই হরমোনগুলো লিভারকে সংকেত পাঠায় রক্তে বাড়তি গ্লুকোজ বা সুগার ছেড়ে দেওয়ার জন্য। সুস্থ মানুষের প্যানক্রিয়াস সাথে সাথেই বাড়তি ইনসুলিন ছেড়ে গ্লুকোজকে কোষে ঢুকিয়ে ফেলে। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে, সেই বাড়তি সুগার রক্তেই থেকে যায় এবং সকালে মাপলে সুগার বেশি দেখায়।
ডন ফেনোমেনন খুব স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া। তবে যদি নিয়মিত সকালে সুগারের মাত্রা অনেক বেশি থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শেয়ার করুন