গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন শরীরের জন্য এক চমৎকার এবং জটিল প্রক্রিয়া। এই সময়ে শরীর নিজেকে নতুন একটি প্রাণের বিকাশের উপযোগী করে গড়ে তোলে। ঠিক এই কারণেই গর্ভাবস্থায় হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা প্রায়ই শুনে থাকি যে, গর্ভবতী মায়ের থাইরয়েড চেকআপ করা জরুরি, কিন্তু এর পেছনের কারণটা অনেকের কাছেই অজানা। গর্ভধারণের শুরু থেকেই আপনার থাইরয়েড গ্রন্থি বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশ এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করে।
গর্ভের প্রথম ১২–১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত বাচ্চা নিজে থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে পারে না — তখন মায়ের থাইরয়েডই বাচ্চার চাহিদা পূরণ করে। তাই এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েড কম হলে কী ঝুঁকি থাকে?
যদি মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি না হয় (হাইপোথাইরয়েডিজম), তবে কিছু সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে:
- গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া
- গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-একলাম্পসিয়া
- বাচ্চার সঠিক ওজন না হওয়া বা সময়ের আগেই প্রসবের ঝুঁকি
- বাচ্চার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বা আইকিউ (IQ) কিছুটা ধীরগতির হওয়ার আশঙ্কা
আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই — সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ মা ও সুস্থ শিশু পাওয়া সম্পূর্ণ সম্ভব। শুধু দরকার সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ।
কী করবেন — গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলেই একবার থাইরয়েড প্রোফাইল পরীক্ষা করিয়ে নিন।
- যাদের আগে থেকেই থাইরয়েডের সমস্যা আছে, গর্ভধারণের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই হরমোন বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।
- প্রেগনেন্সিতে শরীরের প্রয়োজনে ওষুধের মাত্রা সামঞ্জস্য (adjust) করতে হতে পারে — ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কিছু সেবন করবেন না।
- প্রতি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ অন্তর TSH পরীক্ষা করে হরমোনের মাত্রা চেক করা গর্ভাবস্থায় খুবই জরুরি।
শেয়ার করুন