আমাদের ব্যস্ত জীবনে এখনকার সবচেয়ে বড় বিলাসিতা হলো নিজের শরীরের জন্য সময় বের করা। দিনের পর দিন আমরা যান্ত্রিক হয়ে পড়ছি — বাসার ভেতর এক রুম থেকে অন্য রুমে যেতেও যেন আলস্য লাগে, আর জিম বা পার্কে যাওয়ার কথা তো চিন্তাই করা যায় না।
অথচ আমাদের শরীর কিন্তু কোনো যন্ত্র নয় যে কেবল তেল-পানি দিলেই চলবে। এর প্রয়োজন সচল থাকা। হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা থেকে শুরু করে মেটাবলিজম ঠিক রাখা — সবকিছুর পেছনেই হাঁটাচলার মতো সাধারণ একটি অভ্যাসের বড় ভূমিকা আছে।
প্রতিদিন কতটুকু হাঁটা উচিত?
অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ফিট থাকতে প্রতিদিন ঠিক কতটুকু হাঁটা উচিত? প্রাপ্তবয়স্ক একজন সুস্থ মানুষের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মানের শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটা প্রয়োজন।
যদি আপনার লক্ষ্য হয় ওজন নিয়ন্ত্রণ করা বা হরমোনের সেনসিটিভিটি বাড়ানো, তবে প্রতিদিন ১০,০০০ স্টেপ বা প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য চমৎকার। যদি আপনি একদম নতুন শুরু করেন, তবে প্রথম দিকেই এই চাপ না নিয়ে ধীরে ধীরে লক্ষ্য বাড়ান।
কীভাবে হাঁটবেন?
- দ্রুত হাঁটুন (Brisk Walking): অলসভাবে ধীরে হাঁটার চেয়ে একটু দ্রুত হাঁটা বেশি কার্যকর — হার্টবিট বাড়বে, শরীর গরম হবে, ঘাম ঝরবে।
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমায়: দ্রুত হাঁটার সময় শরীর সবথেকে বেশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে কাজ করে।
- ভাগ করে হাঁটতে পারেন: টানা ৩০ মিনিট সময় বের করতে না পারলে, ১০ মিনিট করে দিনে ৩ বার হাঁটলেও একই উপকার পাবেন।
- মূল বিষয়: দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থাকা।
হাঁটার স্বাস্থ্য উপকারিতা
নিয়মিত হাঁটলে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। হাঁটা মনকে শান্ত করে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল-এর মাত্রা কমিয়ে দেয় — যা মেজাজ ফুরফুরে রাখতে দারুণ কাজ করে। থাইরয়েড বা অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মেটাবলিজমকে গতিশীল রাখতে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই।
শেয়ার করুন