রোগটি কী
থাইরয়েড গলার সামনের দিকে প্রজাপতির মতো দেখতে একটি ছোট গ্রন্থি। এর হরমোন শরীরের বিপাক, শক্তি, হৃৎস্পন্দন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।
- হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হওয়া
- হাইপারথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড হরমোন বেশি তৈরি হওয়া
- থাইরয়েড নডিউল ও গলগণ্ড (গয়টার): থাইরয়েডে গোটা হওয়া বা গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া
- অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ: হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস বা গ্রেভস ডিজিজের মতো অবস্থা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাইরয়েডকে প্রভাবিত করে
থাইরয়েডের সমস্যা বেশ সাধারণ, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে। সঠিক রোগনির্ণয় ও নিয়মিত ফলো-আপে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সাধারণ লক্ষণ
থাইরয়েড হরমোন কম হলে দেখা দিতে পারে:
- ক্লান্তি, শীত বেশি লাগা, ওজন বেড়ে যাওয়া
- কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক শুষ্ক হওয়া, চুল পাতলা হওয়া
- মন খারাপ থাকা, চিন্তা ধীর হয়ে যাওয়া
- মাসিক বেশি হওয়া বা অনিয়মিত হওয়া
থাইরয়েড হরমোন বেশি হলে দেখা দিতে পারে:
- বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা, হাত কাঁপা
- ভালো খিদে থাকা সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
- গরম বেশি লাগা ও ঘাম হওয়া
- ঘন ঘন পায়খানা, ঘুমের সমস্যা
নডিউল বা গলগণ্ড হলে গলার সামনে ফোলা দেখা যেতে পারে; কখনো কখনো ঢোক গিলতে অসুবিধা হয় বা গলার স্বর বদলে যায়।
কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
- রক্ত পরীক্ষায় TSH বা থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিক এসেছে
- গলায় কোনো গোটা বা ফোলা লক্ষ করছেন
- ওপরের মতো লক্ষণ আছে এবং তা কমছে না
- থাইরয়েডের সমস্যা আছে এবং আপনি গর্ভবতী বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন
- থাইরয়েডের ওষুধের মাত্রা ঠিক মনে হচ্ছে না, বা লক্ষণ আবার ফিরে আসছে
- থাইরয়েডের সমস্যার সাথে চোখ বড় হয়ে আসা, চোখে খচখচ করা বা একটি জিনিস দুটো দেখার মতো সমস্যা আছে
চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ
থাইরয়েডের সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ঠিক করা হয়:
- হাইপোথাইরয়েডিজমে সাধারণত প্রতিদিন থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ দেওয়া হয় এবং রক্ত পরীক্ষা দেখে মাত্রা ঠিক করা হয়
- হাইপারথাইরয়েডিজমে অ্যান্টি-থাইরয়েড ওষুধ, রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন বা কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার লাগতে পারে
- নডিউল মূল্যায়নে রক্ত পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়; কিছু ক্ষেত্রে FNAC পরীক্ষা লাগে
- গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের চাহিদা বদলায়, তাই আরও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ দরকার
থাইরয়েডের ওষুধ ঠিক যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে খান, আর ফলো-আপ পরীক্ষা সময়মতো করান।
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট যেভাবে সাহায্য করেন
ডা. মরিয়ম জামান লক্ষণ শুনে, গলা পরীক্ষা করে এবং থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট ও স্ক্যান দেখে রোগনির্ণয় নিশ্চিত করেন। এরপর চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয় এবং ফলো-আপে প্রয়োজনমতো বদলানো হয়। প্রতিটি রিপোর্টের অর্থ ও গুরুত্ব সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়।



