রোগটি কী
অস্টিওপোরোসিসে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি কমে যায়, ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। সামান্য পড়ে গেলে, এমনকি পড়ে না গেলেও, হাড় ভেঙে যেতে পারে। কোমর (হিপ), মেরুদণ্ড ও কবজির হাড় বেশি আক্রান্ত হয়।
একে প্রায়ই “নীরব রোগ” বলা হয়, কারণ হাড় না ভাঙা পর্যন্ত সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না। মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার (মেনোপজ) পর নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়, তবে পুরুষদেরও হতে পারে।
বয়স বেশি হওয়া, আগেভাগে মেনোপজ, কম ওজন, পারিবারিক ইতিহাস, ধূমপান, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ খাওয়া, ভিটামিন-ডি ঘাটতি এবং থাইরয়েড বা প্যারাথাইরয়েড হরমোন বেড়ে যাওয়ার মতো কিছু হরমোনজনিত রোগ ঝুঁকি বাড়ায়।
সাধারণ লক্ষণ
হাড় না ভাঙা পর্যন্ত অস্টিওপোরোসিসের সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না। সতর্ক হওয়ার মতো বিষয়:
- সামান্য পড়ে গিয়ে বা আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়া
- সময়ের সাথে উচ্চতা কমে যাওয়া
- পিঠ কুঁজো বা বাঁকা হয়ে যাওয়া
- হঠাৎ পিঠে তীব্র ব্যথা, যা মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙার লক্ষণ হতে পারে
কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
- সামান্য পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙেছে
- মেনোপজের পর ঝুঁকির কারণ আছে, অথবা আগেভাগে মেনোপজ হয়েছে
- তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে স্টেরয়েড ওষুধ খাচ্ছেন
- DXA স্ক্যানে হাড়ের ঘনত্ব কম এসেছে (অস্টিওপেনিয়া বা অস্টিওপোরোসিস)
- থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো হাড়ে প্রভাব ফেলে এমন রোগ আছে
চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ
চিকিৎসার লক্ষ্য হলো হাড় ভাঙা প্রতিরোধ করা:
- মূল্যায়ন: DXA বোন ডেনসিটি স্ক্যান এবং মূল কারণ খুঁজতে রক্ত পরীক্ষা
- ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি: খাবার, রোদ এবং প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে
- হাড় মজবুত করার ওষুধ, যাদের হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেশি
- ব্যায়াম: সামর্থ্য অনুযায়ী ভার বহনকারী ও ভারসাম্যের ব্যায়াম
- পড়ে যাওয়া প্রতিরোধ: চোখের দৃষ্টি, উপযুক্ত জুতা, ঘরের নিরাপত্তা ও ওষুধ পর্যালোচনা
হাড়ের ওষুধ সঠিক নিয়মে ও পরামর্শমতো নিয়মিত খেলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট যেভাবে সাহায্য করেন
ডা. মরিয়ম জামান আপনার হাড় ভাঙার ঝুঁকি নির্ধারণ করেন, হাড় ক্ষয়ের পেছনে হরমোনজনিত বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না খুঁজে দেখেন এবং আপনার স্বাস্থ্যের সাথে মানানসই চিকিৎসার পরামর্শ দেন। চিকিৎসা কাজ করছে কি না, তা ফলো-আপ স্ক্যান ও পরীক্ষায় দেখা হয়।



