মূল অংশে যান
ডা. মরিয়ম জামান

হরমোনজনিত সমস্যা

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)

Polycystic Ovary Syndrome (PCOS)

অনিয়মিত মাসিক, অবাঞ্ছিত লোম, ব্রণ ও হরমোনজনিত ওজনের পরিবর্তন।

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) বোঝাতে প্রতীকী চিত্র

রোগটি কী

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সন্তান ধারণক্ষম বয়সের নারীদের একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা। এতে ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হয় বা হয় না, অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং অনেকের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকে।

নাম শুনে মনে হলেও পিসিওএস হলেই ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকবে এমন নয়। আবার আল্ট্রাসনোগ্রামে ছোট ছোট ফলিকল দেখা গেলেই পিসিওএস বলা যায় না। লক্ষণ, শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাম মিলিয়ে রোগনির্ণয় করা হয়।

পিসিওএস শুধু মাসিকের সমস্যা নয়। এতে ভবিষ্যতে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও অন্যান্য মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে, তাই নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ দরকার।

সাধারণ লক্ষণ

  • অনিয়মিত মাসিক, দেরিতে মাসিক বা মাসিক বন্ধ থাকা
  • মুখ, বুক বা পিঠে অবাঞ্ছিত লোম
  • ব্রণ বা তৈলাক্ত ত্বক
  • মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া
  • ওজন বেড়ে যাওয়া, বিশেষ করে পেটের চারপাশে
  • ঘাড় বা বগলের ত্বক কালচে হয়ে যাওয়া (অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিক্যান্স)
  • গর্ভধারণে সমস্যা

কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন

  • মাসিক অনিয়মিত বা বন্ধ হয়ে গেছে (এবং আপনি গর্ভবতী নন)
  • মুখে বা শরীরে লোম বাড়ছে, অথবা ব্রণ সারছে না
  • সন্তান নিতে সমস্যা হচ্ছে
  • পিসিওএস আছে এবং ওজন বাড়ছে, বা রক্তে শর্করা কিংবা কোলেস্টেরল বেশি
  • শুধু আল্ট্রাসনোগ্রাম দেখে পিসিওএস বলা হয়েছে এবং আপনি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করাতে চান

চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ

পিসিওএসের এককালীন কোনো স্থায়ী সমাধান নেই, তবে লক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। চিকিৎসায় থাকতে পারে:

  • জীবনযাত্রার পরিবর্তন: সামান্য ওজন কমালেও মাসিক ও হরমোনের ভারসাম্যে উন্নতি হতে পারে
  • মাসিক নিয়মিত করা: আপনার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী হরমোনাল বা অন্যান্য ওষুধ
  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের চিকিৎসা, যদি থাকে
  • অবাঞ্ছিত লোম ও ব্রণের চিকিৎসা
  • সন্তান নিতে সহায়তা: গর্ভধারণের ইচ্ছা থাকলে পরিকল্পনা ও প্রয়োজনে রেফারেল
  • নিয়মিত পরীক্ষা: রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ

আপনার প্রধান সমস্যা কী—মাসিক, ত্বক, ওজন নাকি সন্তান ধারণ—তার ওপর চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ভর করে।

এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট যেভাবে সাহায্য করেন

ডা. মরিয়ম জামান প্রথমে নিশ্চিত হন সমস্যাটি আসলেই পিসিওএস কি না, কারণ থাইরয়েডের রোগ বা প্রোল্যাকটিন বেড়ে যাওয়ার মতো অন্য হরমোনজনিত সমস্যাও একই রকম লক্ষণ তৈরি করতে পারে। এরপর আপনার কাছে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা মাথায় রেখে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয় এবং ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য মেটাবলিক ঝুঁকি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।

কল করুনঅ্যাপয়েন্টমেন্ট