রোগটি কী
ডায়াবেটিস হলে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। শরীর যখন যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, অথবা ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না, তখন এমন হয়।
- টাইপ ২ ডায়াবেটিস সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এটি সাধারণত ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং পারিবারিক ইতিহাস, ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমের সাথে সম্পর্কিত।
- টাইপ ১ ডায়াবেটিসে শরীর ইনসুলিন তৈরি করা বন্ধ করে দেয়। এটি প্রায়ই শিশু বা তরুণ বয়সে শুরু হয় এবং সবসময় ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়।
- গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হলো গর্ভাবস্থায় প্রথম ধরা পড়া উচ্চ রক্তশর্করা। মা ও শিশুর সুরক্ষার জন্য এতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ দরকার।
দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে চোখ, কিডনি, স্নায়ু, হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির ধীরে ধীরে ক্ষতি হতে পারে। ভালো নিয়ন্ত্রণে এই ঝুঁকি কমে।
সাধারণ লক্ষণ
- খুব পিপাসা লাগা ও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
- ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
- চোখে ঝাপসা দেখা
- কাটা-ছেঁড়া বা সংক্রমণ দেরিতে সারা
- হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা বা অবশ ভাব
টাইপ ২ ডায়াবেটিসের শুরুতে অনেকের কোনো লক্ষণই থাকে না, তাই পরীক্ষা করানো জরুরি।
কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
- রক্ত পরীক্ষায় শর্করা বা HbA1c বেশি এসেছে
- ওষুধ খাওয়ার পরও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আসছে না
- প্রায়ই রক্তে শর্করা কমে যাচ্ছে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
- ডায়াবেটিস আছে বা শর্করা বেশি, আর আপনি গর্ভবতী বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন
- পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে, অথবা বাড়তি ওজন বা পিসিওএসের মতো ঝুঁকি আছে
- চোখ, পা, কিডনি বা রক্তচাপ নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে
চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ
প্রত্যেক রোগীর জন্য আলাদাভাবে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। সাধারণত এর মধ্যে থাকে:
- নিয়মিত পর্যবেক্ষণ: পরামর্শ অনুযায়ী HbA1c পরীক্ষা ও বাসায় গ্লুকোজ মাপা
- খাবার ও ব্যায়াম: দৈনন্দিন খাবার ও জীবনযাত্রার সাথে মানানসই বাস্তব পরিবর্তন
- ওষুধ: প্রয়োজনে ট্যাবলেট, ইনসুলিন বা অন্যান্য ইনজেকশন
- জটিলতা পরীক্ষা: চোখ, কিডনি, পা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল
- রোগী শিক্ষা: শর্করা কমে গেলে কী করবেন, অসুস্থতার দিনে ও রোজায় কীভাবে নিরাপদ থাকবেন
নিজে থেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট যেভাবে সাহায্য করেন
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ও ডায়াবেটোলজিস্ট হিসেবে ডা. মরিয়ম জামান আপনার ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেখে সেগুলোর অর্থ বুঝিয়ে বলেন এবং আপনার সাথে আলোচনা করে চিকিৎসা পরিকল্পনা ঠিক করেন। ফলো-আপে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানো হয়। রোগী যেন নিজের রোগ বুঝে প্রতিদিন আত্মবিশ্বাসের সাথে সামলাতে পারেন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।



