রোগটি কী
ডিসলিপিডেমিয়া মানে রক্তে চর্বি বা লিপিডের মাত্রায় গরমিল। এর মধ্যে রয়েছে LDL বা “খারাপ” কোলেস্টেরল বেশি, ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি এবং HDL বা “ভালো” কোলেস্টেরল কম থাকা।
দীর্ঘদিন কোলেস্টেরল বেশি থাকলে তা রক্তনালির দেয়ালে প্লাক হিসেবে জমে নালিকে সরু করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও মেটাবলিক সিনড্রোমে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি থাকা সাধারণ ঘটনা, আর খুব বেশি ট্রাইগ্লিসারাইড প্যানক্রিয়াটাইটিস (অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ) ঘটাতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস, ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও বংশগতির পাশাপাশি ডায়াবেটিস, থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া, কিডনির রোগ এবং কিছু ওষুধও এর কারণ হতে পারে।
সাধারণ লক্ষণ
উচ্চ কোলেস্টেরলে সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না, তাই রক্ত পরীক্ষায় (লিপিড প্রোফাইল) এটি ধরা পড়ে। বংশগত কারণে মাত্রা খুব বেশি হলে কদাচিৎ দেখা যেতে পারে:
- চোখের পাতার চারপাশে হলদেটে দাগ
- গোড়ালির পেছনে বা আঙুলের গিঁটে শক্ত গোটা
- কম বয়সে চোখের মণির চারপাশে সাদাটে বৃত্ত
কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
- লিপিড প্রোফাইলে LDL কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি এসেছে
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা থাইরয়েডের রোগ আছে
- নিকটাত্মীয়ের কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়েছে
- চিকিৎসার পরও কোলেস্টেরল বেশি থাকছে
- ট্রাইগ্লিসারাইড খুব বেশি
চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ
- শুধু কোলেস্টেরলের সংখ্যা নয়, সামগ্রিক হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন
- খাবার ও জীবনযাত্রা: স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট কমানো, আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর ওজন
- ঝুঁকি বা মাত্রা অনুযায়ী প্রয়োজন হলে স্ট্যাটিনের মতো কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়ার মতো মূল কারণের চিকিৎসা
- চিকিৎসায় কেমন সাড়া মিলছে তা দেখতে নিয়মিত লিপিড পরীক্ষা
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট যেভাবে সাহায্য করেন
ডা. মরিয়ম জামান ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের মতো পরোক্ষ কারণ আছে কি না দেখেন, আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারণ করেন এবং স্পষ্ট লক্ষ্যসহ চিকিৎসা পরিকল্পনা দেন। রক্তের চর্বি হরমোন ও বিপাকের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে সংশ্লিষ্ট রোগগুলোর সাথে মিলিয়ে এর চিকিৎসা করা হয়।



