রোগটি কী
মেটাবলিক সিনড্রোম হলো পরস্পর-সম্পর্কিত কয়েকটি ঝুঁকির সমষ্টি, যা একসাথে থাকলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। সাধারণত নিচের পাঁচটির মধ্যে অন্তত তিনটি থাকলে এটি ধরা হয়:
- কোমরের মাপ বেশি (পেটে চর্বি জমা)
- উচ্চ রক্তচাপ
- খালি পেটে রক্তে শর্করা বেশি
- ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি
- HDL বা “ভালো” কোলেস্টেরল কম
এর কেন্দ্রে থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, যেখানে শরীর ইনসুলিনে ঠিকমতো সাড়া দেয় না। দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে এটি বেশ সাধারণ এবং প্রায়ই ডায়াবেটিস ধরা পড়ার কয়েক বছর আগে থেকেই তৈরি হতে থাকে।
সাধারণ লক্ষণ
মেটাবলিক সিনড্রোমে সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না। কিছু ইঙ্গিত:
- পেটের চারপাশে ওজন বাড়া
- রুটিন পরীক্ষায় রক্তচাপ, শর্করা বা কোলেস্টেরল স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি আসা
- ঘাড় বা বগলের ত্বক কালচে হওয়া
- আল্ট্রাসনোগ্রামে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়া
- আগে পিসিওএস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার ইতিহাস
কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
- রুটিন পরীক্ষায় দুই বা তার বেশি ফলাফল সীমারেখায় আছে (রক্তচাপ, শর্করা, ট্রাইগ্লিসারাইড বা HDL)
- কোমরের মাপ বেশি এবং পরিবারে ডায়াবেটিস বা কম বয়সে হৃদরোগের ইতিহাস আছে
- ফ্যাটি লিভার, প্রিডায়াবেটিস বা পিসিওএস আছে
- ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে একটি গোছানো পরিকল্পনা চান
চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ
ঝুঁকিগুলো পরস্পর-সম্পর্কিত, তাই চিকিৎসাও একসাথে করা হয়:
- প্রথমে জীবনযাত্রা: ধীরে ধীরে ওজন কমানো, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, ভালো ঘুম এবং চিনি ও পরিশোধিত শর্করা কমানো
- লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে রক্তচাপ, শর্করা ও কোলেস্টেরলের ওষুধ
- ধূমপান ছেড়ে দেওয়া
- ওজন, কোমরের মাপ, রক্তচাপ ও রক্ত পরীক্ষার নিয়মিত পর্যালোচনা
ওজনের মতো একটি বিষয়ে উন্নতি হলে প্রায়ই একসাথে আরও কয়েকটির উন্নতি হয়।
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট যেভাবে সাহায্য করেন
ডা. মরিয়ম জামান ঝুঁকিগুলো আলাদা আলাদা না দেখে একসাথে বিবেচনা করেন, ফ্যাটি লিভার ও পিসিওএসের মতো সংশ্লিষ্ট সমস্যা আছে কি না পরীক্ষা করেন এবং আপনার সাথে আলোচনা করে স্পষ্ট ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য ঠিক করেন, যা ফলো-আপে পর্যালোচনা করা হয়।



