রোগটি কী
ভিটামিন-ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং হাড় ও মাংসপেশি সুস্থ রাখে। এর বেশির ভাগ রোদের সংস্পর্শে ত্বকে তৈরি হয়, আর কিছুটা আসে খাবার থেকে।
প্রচুর রোদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ভিটামিন-ডি ঘাটতি খুবই সাধারণ। ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটানো, শরীর ঢাকা পোশাক, গাঢ় ত্বক, বায়ুদূষণ, স্থূলতা, গর্ভাবস্থা এবং কিছু রোগে ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ে।
দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে হাড় দুর্বল হতে পারে (বড়দের অস্টিওম্যালাসিয়া, শিশুদের রিকেটস), মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং পড়ে যাওয়া ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়ে।
সাধারণ লক্ষণ
অনেকেরই কোনো লক্ষণ থাকে না। লক্ষণ থাকলে হতে পারে:
- হাড়, কোমর বা পায়ে ব্যথা
- মাংসপেশি দুর্বল লাগা বা টান ধরা
- ক্লান্তি
- সিঁড়ি ভাঙতে বা চেয়ার থেকে উঠতে কষ্ট হওয়া
- শিশুদের পা বেঁকে যাওয়া বা বৃদ্ধি দেরিতে হওয়া
কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
- রক্ত পরীক্ষায় ভিটামিন-ডি (25-OH ভিটামিন-ডি) কম এসেছে
- হাড়ে ব্যথা, মাংসপেশির দুর্বলতা বা বারবার পড়ে যাওয়ার সমস্যা আছে
- অস্টিওপোরোসিস, হাড় ভাঙা, কিংবা কিডনি বা লিভারের রোগ আছে
- গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ঘাটতির ঝুঁকি আছে
- সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পরও ভিটামিন-ডি কম থাকছে
চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ
- ভিটামিন-ডি পূরণ: আপনার রক্তের মাত্রা ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট
- ক্যালসিয়াম পরীক্ষা, প্রয়োজনে প্যারাথাইরয়েড হরমোনসহ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা
- নিরাপদভাবে রোদ লাগানো এবং সামুদ্রিক মাছ ও ডিমের মতো ভিটামিন-ডি যুক্ত খাবার
- চিকিৎসার পর পরামর্শমতো আবার মাত্রা পরীক্ষা
তত্ত্বাবধান ছাড়া খুব উচ্চমাত্রার ভিটামিন-ডি খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। পরামর্শ দেওয়া মাত্রা ও সময় মেনে চলুন।
এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট যেভাবে সাহায্য করেন
ডা. মরিয়ম জামান সঠিক রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ঘাটতি নিশ্চিত করেন, শোষণের সমস্যা বা ওষুধের প্রভাবের মতো কারণ খুঁজে দেখেন এবং চিকিৎসা ও ফলো-আপের পরিকল্পনা করেন। প্রয়োজনে একই সাথে হাড়ের স্বাস্থ্য ও ক্যালসিয়ামের ভারসাম্যও মূল্যায়ন করা হয়।



